03 July 2026
‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ উষ্মা প্রকাশ করলে, তার জবাব দিতে জানি’: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্র উষ্মা প্রকাশ করলে বাংলাদেশও তার উপযুক্ত জবাব দিতে জানে। তিনি বলেন, “আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কেউ যদি উষ্মা প্রকাশ করেন, তাহলে তাদের উষ্মার ওপরে আমরা একটা গরম শ্বাস ছেড়ে দেব।”
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোণা সার্কিট হাউসে জেলা জামায়াত আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খুলাফায়ে রাশেদিনের নামে সেনাবাহিনীর নতুন চারটি কোম্পানির নামকরণ নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত, মিয়ানমার, চীন বা নেপালের মতো দেশগুলোর আপত্তি জানানোর কোনো কারণ নেই।
তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন হলে প্রতিবেশী দেশগুলোরও খুশি হওয়া উচিত। “আমরা সবাইকে বন্ধু মনে করি। বন্ধুর উন্নয়নে বন্ধু অসন্তুষ্ট হবে, এমনটি আমরা আশা করি না,” বলেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার অভিযোগ, যেসব এলাকায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন সেখানে বিভিন্ন অনুদান দেওয়া হলেও বিরোধী দলের নির্বাচনী এলাকাগুলো একই সুবিধা পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়; রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি অঞ্চলের প্রতি সমান দায়িত্ব রয়েছে। কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে জামায়াত তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। সরকার ভালো কাজ করলে বিরোধী দল সমর্থন দেবে, আর ভুল করলে গঠনমূলক সমালোচনা করবে। জাতীয় স্বার্থে উভয় পক্ষের ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
