মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 04 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 July 2026
অন্যান্য

শ্রমিক নেতা হত্যায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধান আসামি যুবদল নেতা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও চালক মানিক মিয়া (৪০) হত্যা মামলায় ১৩ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় আট জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল খালেক মুন্সির ছেলে এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সম্পাদক মো. সোয়েব মুন্সিকে। তিনি গৌরীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দলীয় সিদ্ধান্তে যুবদল নেতা সোয়েব মুন্সি, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পশ্চিম দাপুনিয়া এলাকায় হোসেন আলীর বাড়ির সামনে নিয়ে তাকে দফায় দফায় মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের পর অভিযুক্তরা মানিকের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ও তার ছেলেকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। সেখানে সুমাইয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে এমন একটি বক্তব্য রেকর্ড করানো হয়, যাতে তার স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করতে বাধ্য করা হয়। পরে গুরুতর আহত মানিককে তার স্ত্রীর কাছে রেখে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্বজনরা রাত সাড়ে ৩টার দিকে মানিক মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা এবং আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঘটনার পর গৌরীপুরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।