মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 05 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
04 July 2026
অন্যান্য

‘গালিবাফ-আরাঘচিকে হত্যার পরিকল্পনা’ বিষয়ে মুখ খুললো ইসরায়েল

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ‘ভুয়া’ এবং ‘বাস্তবতার বিকৃতি’ ছাড়া আর কিছু নয়।

এর আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দুই সংবাদমাধ্যম জানায়, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে ইসরায়েল গালিবাফ ও আরাঘচিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এমন সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা ইসরায়েলের অন্যতম কৌশলে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ইসরায়েলের নজরদারির আওতায় ছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ছিল, যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল আরাঘচি ও গালিবাফকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, তাদের হত্যা করা হলে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এর আগে মার্চ মাসে *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল* এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে তাদের নাম ওই তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে *দ্য নিউইয়র্ক টাইমস* জানায়, স্পিকার গালিবাফ ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন—এ তথ্য জানার পর তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের সংঘাতের সময় গালিবাফ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ইরানের তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি, পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি গোপন বাঙ্কারে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক চলাকালে সেখানে ইসরায়েলি হামলা হয়। পৃথক দুটি হামলায় বাঙ্কারটি ধসে পড়লেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে গালিবাফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।