04 July 2026
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর নিয়ে অসন্তোষ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দেশে সদ্য অনুমোদন পাওয়া নতুন উপজেলার একটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভেঙে করা ফটিকছড়ি উত্তরের সদর নিয়ে স্থানীদের অসন্তোষ বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। একইসাথে উঠেছে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। স্থানীয়রা নতুন উপজেলার সদর ন্যায্য স্থানের পরিবর্তে দক্ষিণাংশেই স্থাপন চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই সময়সীমা বেঁধে দেয় উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ নামের একটি সংগঠন। এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পেলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এসময় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার ছিলেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার, অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া এক লাখ ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রত্যাশা উপেক্ষা করা উচিত হবে না। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে আগে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ ম্যাটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার, জহির রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
