04 July 2026
লালমনিরহাটে নতুন যাত্রায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ যৌতুক, জুয়া ও মাদক, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনই পারে সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ দূর করতে এমন বার্তা নিয়ে লালমনিরহাটে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে সামাজিক সংগঠন আলোকিত লালমনিরহাট।
২০০৫ সালের পর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়ে, দুর্নীতি ও যৌতুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে আবারো মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করলো এই সংগঠনটি।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে আলোকিত লালমনিরহাটের এই পুনর্যাত্রা ও গণজাগরণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, নির্যাতন সহেছি, অনেক প্রাণ দিয়েছি, জেল খেটেছি। তবু আমরা মাথা নোয়াইনি। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছি। এখন একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, নতুন করে বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিনির্মাণের সেই আন্দোলন আজ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ আজ পরাজিত, যুবকরা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। জনগণকে সচেতন ও সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র উপায়। ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর এই আন্দোলন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই আমার প্রত্যাশা।
উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা মাদক, যৌতুক ও জুয়াকে ‘না’ বলবেন। আপনাদের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ যে আন্দোলন আপনারা করেছিলেন, তা আজ সফল হতে চলেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে আমরা বাস্তবায়ন করব, যার মধ্য দিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হবে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও আলোকিত লালমনিরহাটের সভাপতি মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, এটি দ্রুতই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। সেই সাথে তিনি আলোকিত লালমনিরহাট সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের এই নতুন যাত্রার প্রতি গভীর শুভেচ্ছা ও পূর্ণ শুভকামনা জানান।
সমাবেশে আলোকিত লালমনিরহাট এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি যুবসমাজকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠ পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে ইতিমধ্যে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে আলোকিত লালমনিরহাট এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবতা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক।
উল্লেখ্য, এই কার্যক্রম শুরুর অংশ হিসেবে আগের রাতেই সংগঠনটির উদ্যোগে ৭ জন দম্পতির সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আজ মূল আলোচনা সভা শেষে তিন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে মাঠ থেকে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। মাদক ও যৌতুকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
