মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 05 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
04 July 2026
অন্যান্য

আগাম ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে না কেপ ভার্দে

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সাম্প্রতিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থান বর্তমানে ৯৬তম। এই র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। একই তালিকায় আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও রয়েছে, যা সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের কারণে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে।

তবে কেপ ভার্দের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ভিন্ন। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ, ট্রানজিট বা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে অবশ্যই ভিসা নিতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা ছাড়া কেপ ভার্দে প্রবেশের সুযোগ নেই। ভিসা ছাড়া পৌঁছালে প্রবেশ বা ট্রানজিট অনুমোদন নাও দেওয়া হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, ভিসা পেতে আবেদনকারীদের নিজ দেশের নিকটতম কেপ ভার্দের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই নিরাপদ।

বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস না থাকায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪ সালে পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী কেপ ভার্দে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সেনেগালে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস থেকে ছয় মাসের ভিসা নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ভ্রমণ করতে পারেননি। তিনি জানান, মালিতে অবস্থানকালে জ্বালানি সংকট ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়, যদিও ভবিষ্যতে আবার কেপ ভার্দে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র আয়তনে ছোট হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি ও সংগীতের জন্য দেশটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রথমে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় গিয়ে সেখান থেকে সেনেগাল হয়ে কেপ ভার্দে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিয়েও দেশটিতে ভ্রমণ করা সম্ভব।