মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Monday, 06 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
05 July 2026
অন্যান্য

পুনর্বাসনের চেষ্টায় বিএলআরআই-এর সাবেক ডিজি ও তাঁর স্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তাঁদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের দায়িত্বকালে বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল এবং চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো।

২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর এক প্রতিবেদনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগ প্রকাশিত হয়। একই প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়, সেখানে ড. নাসরিন সুলতানা ও একজন অতিরিক্ত পরিচালকের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. নাসরিন সুলতানা বিভিন্ন অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের প্রকল্প বাজেট নিজের নামে গ্রহণ করেন। এসব প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং সরকারি বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ড. নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয় এবং ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন কবির পুনঃতদন্তের নামে কোনো কার্যকর তদন্ত ছাড়াই তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে ড. নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি বিভাগীয় মামলাও করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে তদন্ত না করে অতিরিক্ত সচিবের সুপারিশের ধারাবাহিকতায় ড. নাসরিন সুলতানাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন।

একই অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও বিভাগীয় তদন্তে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত আসায় প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএলআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ড. নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুনরায় কোনো তদন্ত ছাড়াই তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। একই বিষয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন ভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে প্রতিষ্ঠানকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ড. নাসরিন সুলতানা, ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।