মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 06 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
05 July 2026
অন্যান্য

অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, গ্রেপ্তার সেই অভিযুক্ত 

বরিশাল নগরীর অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের টপ টেন নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়ক এলাকায়।

জানা গেছে, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরের সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চার যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় আব্দুল আজিজ ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে লিটুর সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবিও তোলা হয়।

আব্দুল আজিজ হাওলাদার দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিও বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই- এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

আব্দুল আজিজ আরও জানান, ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করে চেকগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করেন। ফলে ওই চেকের মাধ্যমে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজটি নিজেই প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। তিনি বলেন, ঘটনার দিন যারা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতে মামলা করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি রোববার থানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।