মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 07 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 July 2026
অন্যান্য

জাহাজ রিসাইক্লিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: শিল্পমন্ত্রী

একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে অবস্থিত এসএন কর্পোরেশন, আরব শিপ ব্রেকিং এন্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড, পিএইচপি শিপ ব্রেকিং এন্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ সোমবার (৬ জুলাই) পরিদর্শনকালে ইয়ার্ডে সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিন গ্রিন শিপইয়ার্ড পরিদির্শণ শেষে ইয়ার্ডে মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

গ্রিন শিপইয়ার্ড পরিদর্শণ শেষে দুপুরে উপজেলার শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ের গ্রুপের বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল ইন্ডাষ্ট্রিজও পরিদর্শণ করে শিল্প মালিকদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। কারখানার ব্যবস্থাপক (এইচআরএডমিন) ইমরুল কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী পুরো কারখানা ঘুরে দেখেছেন। স্থানীয় ও ব্যবসায়ীক নানা বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

গ্রিন শিপইয়ার্ড পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিপ ব্রেকিং শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ক্র্যাশ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ সংকটকে দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে, তা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। এসব ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করছে। যারা এখনও গ্রিন লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও একই মানদণ্ডে আসতে হবে। সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বিএসবিআরএ নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মহসিন চৌধুরী, শওকত আলী চৌধুরী, কামাল উদ্দিন আহমেদ, লিয়াকত আলী চৌধুরী, মাস্টার আবুল কাসেম, নুর উদ্দিন রুবেল, আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ শীর্ষস্থায়ী শিপব্রেকার্সরা।