মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 08 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
07 July 2026
অন্যান্য

তাজমহল নিয়ে ফের বিতর্ক, হাইকোর্টে শুরু নতুন আইনি লড়াই

বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে আবারও আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাজমহলের নিচে কোনো প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিরূপণে জরিপের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে নোটিশ জারি করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষ তাজমহল প্রাঙ্গণে হিন্দুদের পূজার অনুমতি এবং পুরো স্থাপনার জরিপ পরিচালনার জন্য একজন অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদন জানায়। এর আগে আগ্রার একটি নিম্ন আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব উল্লেখ করে একই ধরনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে।

আবেদনকারী পক্ষের নেতৃত্বে থাকা আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন দাবি করেন, তাজমহল মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত সমাধিসৌধ নয়; বরং এটি ‘তেজো মহালয়া’ নামে ভগবান মহাদেবকে উৎসর্গ করা একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির। তাদের দাবি, ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে মোগলরা এটি দখল করে রূপান্তরিত করে। আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে, যা এই দাবির পক্ষে সহায়ক।

এছাড়া, তাজমহলে নামাজ আদায়ের অনুমতি এবং স্থাপনার কিছু অংশ তালাবদ্ধ রাখার বিষয়েও এএসআইয়ের ভূমিকা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে প্রচলিত ও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত মত অনুযায়ী, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তাজমহল ১৬৩১ থেকে ১৬৫৩ সালের মধ্যে মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেন।

রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার আদি পরিচয় নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাজমহলকে ঘিরে নতুন এই মামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। আবেদনকারীরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ছবি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে চান।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআইয়ের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ। উল্লেখ্য, আবেদনকারীদের দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তও হয়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া