মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 09 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
08 July 2026
অন্যান্য

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আটকা অনেক শিশু

টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একটি মাদরাসা মাটিচাপা পড়ে অন্তত ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বুধবার দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ (ব্লক অ-০৩) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মাদরাসার ওপর আছড়ে পড়ে। সে সময় মাদরাসায় বহু শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো ভবনটি মাটিচাপা পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়ে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রফিক জানান, এ পর্যন্ত ৭ জন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৭ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেক শিক্ষার্থী মাটির নিচে আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করছি। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত হয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। আমরাও ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।

তবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ক্যাম্পবাসীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।