মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 10 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 July 2026
অন্যান্য

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ফিফার

আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্বাধীন এবং কোনোভাবেই বাইরের প্রভাবের শিকার নয়। তার ভাষায়, “ফাউল মানেই ফাউল”; ঘটনাটি গোলের যত আগেই ঘটুক না কেন, ভিএআর সেটি শনাক্ত করলে রেফারিকে জানাবেই।

ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা। তারা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, “বিশ্বকাপের আর মাত্র আটটি ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা রেফারিংয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এত অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো নাও হতে পারে। তবে সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েই ম্যাচ কর্মকর্তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।”

রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

কোলিনা আরও স্পষ্ট করে জানান, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। তার ভাষায়, “রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা পরিচালিত হয় এমন দাবি ঠিক নয়। এমনকি ফিফা সভাপতির পক্ষ থেকেও নয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।”

মিসরের বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (Attacking Possession Phase) ভিএআর পরীক্ষা করে। যদি গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি ফাউল। রেফারি মাঠে না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে মিশরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি বলেন, “যদি কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ওই ঘটনাতেও রেফারি ও ভিএআর দুজনই সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকেই। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট বলেও জানান বিশ্বখ্যাত এই সাবেক ইতালিয়ান রেফারি।