মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 10 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 July 2026
অন্যান্য

আসামি মৃত্যুর গুজবে বরিশালে থানায় হামলা, আহত ১২

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় থানা হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৭)কে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে আটক করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়।

থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির নিজের মাথা লোহার গ্রীলে আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা থানার ভেতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ কয়েকজন স্থানীয়ও আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কেউ ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রিয়াজ ফকিরের পরিবারের অভিযোগ, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে। তার মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির দাবি করেন, পুলিশের মারধরের কারণেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খাঁন। তিনি বলেন, রিয়াজ ফকিরকে একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আটক করা হয়েছিল। থানা হেফাজতে তিনি নিজেই হাজতখানার লোহার গ্রীলে মাথা আঘাত করে আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি আরও জানান, রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে একদল লোক থানায় হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।