09 July 2026
মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার জন্মভূমি ও শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুপুরের পর থেকেই মাশহাদের প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকা লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে খামেনির কফিন ধীরগতিতে ইমাম রেজা (আ.) মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শোকাহত জনতা ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করেন।
গত ৩ জুলাই থেকে খামেনির স্মরণে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে ইরান। তেহরান, কোম এবং পরে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে দাফনের জন্য তার মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়।
শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে কোমে শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনিসহ ইরাকের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। বুধবার নাজাফে শোকযাত্রা শেষে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হোসেন (আ.) ও হজরত আব্বাস (আ.)-এর মাজারে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কারবালার কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফন করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স
