মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 11 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
10 July 2026
অন্যান্য

দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপ:

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৫. জরুরি প্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

৭. দুর্গত মানুষের সহায়তায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৮. বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯. দুর্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

১০. ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে পানিতে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় দুর্যোগে মানুষের সেবায় নিয়োজিত।