মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 11 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
10 July 2026
অন্যান্য

কুমিল্লায় স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা : স্বামীর আত্মসমর্পণ

কুমিল্লায় পারিবারিক কলহে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী মোহাম্মদ কাজল (২৮)। তবে ভাগ্যক্রমে স্ত্রী ইভা আক্তার বেঁচে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কাজল বুড়িচং উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ইভা আক্তার স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজল থানায় এসে দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ইভা আক্তার তখনো জীবিত। তবে তার গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোররাতে কাজল এসে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ কথা বলেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইভা আক্তারকে জীবিত দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয় এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত ইভা আক্তারের বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই কাজল যৌতুকের টাকার জন্য তার বোনকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। বিদেশে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য ঘটনার আগের দিনও ইভাকে মারধর করা হয়। টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

বুড়িচং থানার ওসি বলেন, অভিযুক্ত কাজল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি আহত গৃহবধূর শারীরিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।