10 July 2026
নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে ৩০ মিটার সড়ক বিলীন, যান চলাচল বন্ধ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দফায় দফায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হয়েছে শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার পাকা সড়ক।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢলের পানি নেমে যাওয়ার পর বিধ্বস্ত পাকা সড়ক ভেসে ওঠেছে। স্রোতের তোড়ে পাকা সড়ক ভেঙে সরু হয়ে যাওয়ায় ওই সড়কে মাঝারি ও বড় রকমের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় গত দুই বছর আগেও বন্যায় বিধ্বস্ত বেড়ি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে নিম্নাঞ্চলে ঢলের পানি প্রবেশ করেছিল। গত দুই দিনে পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে প্রবাহিত হয়। তবে শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টিপাত না থাকায় ঢলের পানি ভাটির দিকে নেমে যাওয়া আপাতত বন্যার আশংকা নেই।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১১০ মিলিমিটার এবং সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে উপজেলার ভোগাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার ২০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার দুই নদীর পানি নেমে গেছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলের তীব্র পানির তোড়ে কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-গাজীরখামার- নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার পাকা সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই সড়কের সরু অংশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে। এই সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে মাঝারি ও বড় ধরনের যানবাহন চলাচল। গোল্লারপাড় চেল্লাখালী নদীর বেড়ি বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার ভাঙা অংশ দিয়ে নিম্নাাঞ্চলে প্রবেশ করছে ঢলের পানি। তবে বর্তমানে ফসলি জমিতে কোনো আবাদ না থাকায় কোন ফসলের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত দুই বছর আগে এবারের অংশেই ভাঙন সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত তা মেরামত করা হয়নি। ফলে চেল্লাখালী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামলেই প্রবল বেগে ভাঙন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া পানির স্রোতের তোড়ে নদী তীরবর্তী শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত নদীর বেড়িবাঁধ মেরামতের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, আসন্ন আমন মৌসুমে এই স্থানের বাঁধ দ্রুত মেরামত না করা হলে নিম্নাঞ্চলের আমন আবাদ ঢলের পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। অপরদিকে, পাহাড়ি ঢলের খবর পেয়ে গোল্লারপাড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক। এ সময় এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের বিধ্বস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরও দ্রুত সময়ে তাদেরকে নিয়ে বসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া গোল্লারপাড় অংশে নদীর বেরি বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে নদীর ওই বাঁধটিও নির্মাণ কাজ শুরু করব।’
