10 July 2026
শেরপুরে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার: চালকসহ আটক ২

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যান গতিরোধ করে ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬৫ কার্টুন সয়াবিন তেল ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনায় চালককে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘরিয়া এলাকা থেকে ৬৪৪ কার্টুন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল হোতাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানায় ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির সুপারভাইজার আফছার উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১১)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই রাত ৩টার দিকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট-১৮-২২০৬) ৬৬৫ কার্টুন ‘ফ্রেশ’ সয়াবিন তেল (১১,৭৭৩ লিটার) নিয়ে যশোরের ডিপোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে শ্রীনগর থানার উমপাড়া ওভার ব্রিজের উত্তর পাশে সার্ভিস রোডে পৌঁছালে একটি নীল-হলুদ রঙের জেএসি পিকআপ ভ্যান দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটির গতি রোধ করে ৭/৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। ডাকাতরা চালক আকিব হাসান জয় ও হেলপার নাহিদ হাসানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং হাত-পা ও চোখ বেঁধে পিকআপে তুলে নেয়। পরে তাদের নগদ ৪৩,০০০ টাকা, মোবাইল ও কাভার্ড ভ্যানসহ তেল লুটে নিয়ে কেয়টখালী এলাকায় ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার পর শ্রীনগর থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন ও এএসআই হুমায়ুনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযানে নামে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে কাভার্ডভ্যানের চালক আকিব হাসান জয়কে আটক করা হয়, যে এই চক্রের সাথে জড়িত ছিল। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর থানার বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শেরপুর থানার এসআই শাহাদতের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বেলঘড়িয়া বাজারের প্রতাপ কুমার রায়ের গোডাউন থেকে ৫৮৫ কার্টুন এবং জামুর গ্রামের কুখ্যাত অপরাধী ইমরান হোসেনের (৩৬) ও তার বাবা আব্দুস সালামের বাড়ির গোডাউন থেকে ৫৮ কার্টুন ৪ পিসসহ মোট ৬৪৪ কার্টুন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
গোডাউনের মালিক প্রতাপ রায় জানান, গতকাল ৯ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন গোডাউনটি ভাড়া নেয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমরান হোসেন মধ্য জামুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। এর আগেও ইমরাম চোরাই গরুর সাথে সম্পৃক্ত থাকায় জেল হাজাত খেটেছে। এলাকায় একজন মুদি দোকানি হলেও তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে গরু চুরিসহ একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে।
শ্রীনগর থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন জানায়, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং অবশিষ্ট ২২ কার্টুন তেল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মঈনুদ্দীন বলেন, আমাদের কাছে শ্রীনগর থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন সহযোগীতে চেয়েছে আমরা করেছি। তবে চোরায় মালামাল উদ্ধার হয়েছে যার নিকট হতে সে একজন প্রকৃত অপরাধী আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
