মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 12 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
11 July 2026
অন্যান্য

এক রাতে রাশিয়ার ২৮ জাহাজে ভয়াবহ হামলা

আজভ সাগরে রাতভর অভিযানে রাশিয়ার ২১টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ মোট ২৮ জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির আনম্যানড সিস্টেম ফোর্স জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতভর এ হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ডন-আজভ খাল ও কের্চ প্রণালির নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মস্কো। কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাহিনীটির কমান্ডার রবার্ট মাদইয়ার ব্রোভদি জানান, অভিযানে ২১টি ট্যাংকার, চারটি টাগবোট, দুটি পণ্যবাহী জাহাজ (ড্রাই কার্গো ভেসেল) এবং একটি বিশেষায়িত জাহাজে মোট ৭৩টি সফল হামলা চালানো হয়েছে। টেলিগ্রামে ব্রোভদি লিখেছেন, ‘রাশিয়ার শ্যাডো ট্যাংকার ফ্লিট দৃশ্যমানভাবে ছোট হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে কের্চ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’

ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, এসব ট্যাংকার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করে। এতে আরও বলা হয়, হামলার শিকার টাগবোট, ড্রাই কার্গো জাহাজ এবং বিশেষায়িত জাহাজগুলো রাশিয়ার সামরিক রসদ, পণ্য পরিবহন এবং বন্দর অবকাঠামো পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

ব্রোভদি জানান, একই রাতে অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৫৩টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে নৌবাহিনীর স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে। এটি ইউক্রেনের চলমান ‘ক্রিমিয়ান সুইচ অফ’ অভিযানের অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি রুশ শস্য রপ্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ডন নদী ও আজভ সাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ডন-আজভ খাল দিয়ে নৌ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রাশিয়া।

সূত্রগুলোর একটির দাবি, ১০ জুলাই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে কের্চ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে রুশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে এই বিধিনিষেধ কতদিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার মোট গম রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আজভ সাগরপথে পরিবহন করা হয়। এ কারণে রুশ শস্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ইউরোনেক্সট এক্সচেঞ্জে গমের ফিউচার মূল্য ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ইউক্রেনের এসব হামলার দাবি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।