মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 13 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 July 2026
অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা, আবারও বন্ধ হরমুজ প্রণালি 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি আক্রমণ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার (১২ জুলাই) ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা দেন। তবে তিনি কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী একটি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়েছে। পরে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে তারা। আইআরজিসি বলেছে, "এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।"

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গত শনিবার ইরানের ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তিন দিনের অভিযানে মোট ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের সামুদ্রিক হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। এছাড়া কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা, ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সহায়ক ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

কাতার সরকার জানিয়েছে, হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির ভূখণ্ডে আঘাত হানলেও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওমানের মুসান্দাম অঞ্চলেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ১১ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হলেও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পরিস্থিতির মধ্যে কাতারে হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার। দোহা আগেই জানিয়েছিল, নিজ দেশ হামলার মুখে থাকলে তারা মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করবে না।

সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স