মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 13 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 July 2026
অন্যান্য

তারেক রহমানের বরিশাল সফর : নদীভাঙন রোধ ও বন্ধ কলকারখানা চালুর দাবি

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) প্রথমবারের মতো রাজকীয় সড়কপথে বরিশাল সফরে আসছেন তারেক রহমান।

সরকার প্রধানের এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে সমগ্র বরিশাল বিভাগ জুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সমস্যা সমাধান ও নতুন উন্নয়নের এক বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে

উপকূলীয় জেলা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার লাখ লাখ মানুষের প্রধান দুঃখ নদীভাঙন। মেঘনা, কীর্তনখোলা ও আন্ধারমানিক নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর হাজারো পরিবার ভিটেমাটি হারাচ্ছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রী এই সফর থেকে কোনো স্থায়ী মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেবেন—এমনটাই সবচেয়ে বড় আকুতি সাধারণ মানুষের।

বরিশাল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান বলেন, "আমরা ত্রাণ চাই না, নদীভাঙন থেকে চিরতরে মুক্তি চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, তিনি যেন মেঘনা ও কীর্তনখোলার ভাঙন রোধে স্থায়ী একটি নদী শাসন ও সিসি ব্লক প্রকল্পের ঘোষণা দেন। বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ আজ দিশেহারা।"

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যোগাযোগের অভাব দূর হলেও বরিশালে আশানুরূপ ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। ঐতিহ্যবাহী বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন, গ্যাস সংযোগের নিশ্চয়তা এবং বন্ধ হয়ে থাকা টেকসই কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি দীর্ঘদিনের।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের একজন প্রবীণ নেতা বলেন, "পদ্মা সেতু যোগাযোগের দ্বার উন্মোচন করলেও শিল্পায়নে আমরা এখনো পিছিয়ে। বরিশালের বিসিকের আধুনিকায়ন এবং বন্ধ কলকারখানাগুলো সচল করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী যদি এ অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এবং গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন, তবেই দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।"

বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস বরিশালে আনা এবং জেলা দুটির মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ দৃশ্যমান করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা শোনার জন্য মুখিয়ে আছেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং শয্যা সংকট দূরীকরণের দাবি এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিভাগে নতুন করে যে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হতে যাচ্ছে, সেটির দ্রুত বাস্তবায়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দিকে সবার নজর রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় বিভাগীয় বিশেষ সাংগঠনিক সভা থেকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে বলে আশা করছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।

বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জননেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বরিশালের মাটিতে পা রাখছেন। এটি আমাদের জন্য পরম গৌরবের। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল আজ শতভাগ উজ্জীবিত। আমরা উনাকে স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরটি দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে থাকবে বলে মনে করছেন বরিশালবাসী।