13 July 2026
বেনাপোল বন্দরে নিখোঁজ ১৯ প্যাকেজ পণ্য উদ্ধার

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৯ প্যাকেজ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শেডের ভেতরে পুরোনো নিলামের মালামালের আড়ালে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১২ মার্চ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮ প্যাকেজে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী জব্দ করা হয়। পরে চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে জিম্মায় সংরক্ষণ করা হয়।
এরপর গত ২ জুন চালানটির পুনরায় ইনভেন্টরি করার সময় ১৯ প্যাকেজ পণ্য কম পাওয়া যায়। সোমবার ওই ১৯টি প্যাকেজ শেডের ভেতরে পুরোনো নিলামের মালামালের আড়ালে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার আগে প্যাকেজগুলো অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নিলামের মালামালের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সুযোগের অভাবে সেগুলো সরানো সম্ভব হয়নি। সোমবার অন্য একটি পণ্যচালানের ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা লুকিয়ে রাখা প্যাকেজগুলো খুঁজে পান।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা চালানটির আমদানিকারক যশোরের সাফা ইমপেক্স এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য আমদানি এবং প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “উদ্ধার হওয়া ১৯ প্যাকেজ আগের জব্দ করা চালানেরই অংশ। কীভাবে সেগুলো শেডের ভেতরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান বলেন, “উদ্ধার হওয়া পণ্য গণনা ও যাচাইয়ের কাজ চলছে। এরপর প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
