16 July 2026
কালুখালীতে মারামারি: পাংশা শিল্প ও বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ

রাজবাড়ীর কালুখালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারির ঘটনায় পাংশা শিল্প ও বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং পাংশা পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার সরদারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এই মামলায় আরও ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বুধবার (৮ জুলাই) কালুখালী থানায় মো: ফারুক মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার মো: চৌধুরী মিয়ার ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সোনাপুর মোড়ে নিরব বাবুর (বাদীর ভাই) সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো নিয়ে আসামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নিরব বাবুকে মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার ১নং আসামি (দেলোয়ার সরদার) চিহ্নিত অস্ত্রধারী ক্যাডার চাঁদাবাজ।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন: পাংশা বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার সরদার (৪৩), পাংশা সরদার বাস স্ট্যান্ড এলাকার কায়েম বিশ্বাসের ছেলে সোহেল বিশ্বাস (৩০), পাংশা পৌরসভার গুদিবাড়ি এলাকার মাজেদ মিয়ার ছেলে জার্মান (৩০), একই এলাকার মৃত আলীর ছেলে জিয়া (৩৫), পাংশা পৌরসভার বিষ্ণুপুর এলাকার শাজাহানের ছেলে হেলাল (৩২), একই এলাকার সালামের ছেলে আরিফ (৩১), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে রাজু বিশ্বাস (৩০), আইনদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে ওহিদ বিশ্বাস (৩০), মৃত বিশের ছেলে শফি (৪০) এবং মৃত ছেক শেখের ছেলে নাসির শেখ (৩২)।
পাংশা বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার সরদার বলেন, ঘটনার সময় আমি পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিলাম। অথচ আমাকে কালুখালীর সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মারামারির ঘটনায় ১নং আসামি করা হয়েছে। এই মামলা আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে আমাকে চিহ্নিত অস্ত্রধারী ক্যাডার ও চাঁদাবাজ উল্লেখ করা হয়েছে। আমি পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে ছোট থেকেই জড়িত। আমার পিতা মরহুম আব্দুল আজিজ সরদার পাংশা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আজীবন বিএনপির রাজনীতি করে গেছেন। তিনি পাংশা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন এবং আমার মাও পৌরসভার মেয়র ছিলেন।
পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা। আমি পাংশা বণিক সমিতির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। আমি আমার বাবার মতো সকল ধর্মের মানুষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে রাজনীতি করি। পাংশার একজন মানুষও বলতে পারবে না যে আমি সন্ত্রাসী অথবা চাঁদাবাজি করেছি। আমি চাই প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত করবে এবং এই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেবে।
দেলোয়ার সরদারের নামে মিথ্যা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়ায় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
