মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 20 June 2026
খেলা
banglabrief.com/
সংস্করণ
19 June 2026
খেলা

বিশ্বকাপে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন ইরানের রামিন রেজায়িয়ান

বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন আলোচনার কেন্দ্রে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড কিংবা হ্যারি কেইনের মতো তারকারা, তখন সবার নজর কাড়লেন এক ভিন্ন নাম। ফিফার বিশ্বকাপ পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করে চমক সৃষ্টি করেছেন ইরানের ৩৬ বছর বয়সী রাইট-ব্যাক রামিন রেজায়িয়ান।

চলতি আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে রেজায়িয়ান পেয়েছেন ১৯.৯৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সংগ্রহ ১৯.৮৬ পয়েন্ট। ফলে এই মুহূর্তে মেসিকে ছাড়িয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ইরানি এই ডিফেন্ডার।

যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পয়েন্ট তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক অবদান, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শূন্য থেকে ১০ স্কেলে মূল্যায়ন করে এই র‍্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।

রেজায়িয়ানের উত্থানের মূল ভিত্তি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের ২-২ গোলের ড্র ম্যাচ। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও তিনি সেদিন আক্রমণভাগে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ওই ম্যাচে আক্রমণে ৬.৭৬, সৃজনশীলতায় ৮.২৩ এবং রক্ষণে ৪.৯৪ রেটিং পেয়ে মোট স্কোরে মেসিকে ০.০৭ পয়েন্টে ছাড়িয়ে যান।

উত্তর ইরানের মাজান্দারান অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রেজায়িয়ান বর্তমানে এস্তেগলালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ধারে খেলছেন ফুলাদ ক্লাবে। ক্যারিয়ারে তিনি পার্সিপোলিস, সেপাহান ও এস্তেগলালের মতো ইরানের শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন। এছাড়া বেলজিয়ামের কেভি ওস্টেন্দে এবং কাতারের আল-শাহানিয়া, আল-দুহাইল ও আল-সাইলিয়ার জার্সিতেও দেখা গেছে তাকে।

ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় তিনি উইঙ্গার ও আক্রমণভাগে খেলেছেন। আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্যই তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দারুণ এক চিপ শটে গোল করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে নিজের বিশ্বকাপ অধ্যায়ে যোগ করেছেন নতুন সাফল্য।

ইরানি ফুটবলে ‘শোম্যান’ নামে পরিচিত রেজায়িয়ান মাঠে আত্মবিশ্বাসী ও নান্দনিক ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন। ফ্রি-কিক, গোল উদযাপন কিংবা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ—সব ক্ষেত্রেই তার ব্যক্তিত্ব আলাদা করে চোখে পড়ে।

২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে মাঠের এক মজার কথোপকথনের ঘটনাও বেশ আলোচিত হয়েছিল। পরে রসিকতা করে তিনি জানিয়েছিলেন, ম্যাচ চলাকালে রোনালদোকে বলেছিলেন—‘ভালো না লাগলে অন্য পাশে গিয়ে খেলো।’

তবে পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা মানেই যে রেজায়িয়ান বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন, বিষয়টি তা নয়। এটি মূলত নির্দিষ্ট ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন। তবুও ৩৬ বছর বয়সে ইউরোপের কোনো শীর্ষ ক্লাবে না খেলেও বিশ্বমঞ্চে এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে রেজায়িয়ান আবারও প্রমাণ করেছেন—ফুটবলে চমকের কোনো শেষ নেই।