নিয়তির অদ্ভুত খেয়ালে মেসির প্রতিপক্ষ সেই ছোট্ট ইয়ামাল
বিশ্বকাপের ফাইনালকে সামনে রেখে ফুটবল দুনিয়ায় বইছে টানটান উত্তেজনা। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে ১৯ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে—ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি পরম যত্নে প্লাস্টিকের টবে এক শিশুকে গোসল করাচ্ছেন। কাকতালীয়ভাবে, সেই শিশুটিই আজকের স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহাদ্বৈরথ এই ছবিটির মাধ্যমে যেন এক রূপকথার গল্পে রূপ নিয়েছে।
২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু ড্রেসিংরুমে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুট করা হয়েছিল। স্পেনের মাতারো শহরের এক লটারির মাধ্যমে সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামালের পরিবার। লটারির ভাগ্যেই সেদিন ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসির কোলে ঠাঁই পেয়েছিল কয়েক মাস বয়সী শিশু ইয়ামাল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্তের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই সাধারণ মুহূর্তটি আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিহাসে পরিণত হয়েছে।
দেড় যুগ পর সেই শিশুটিই এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন বিস্ময়। বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভাঙা ইয়ামাল ১৬ বছর বয়সেই ২০২৪ ইউরোতে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েন। গত বছর মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ব্যালন ডি’অরের রানার-আপ হন। এবারের বিশ্বকাপ চলাকালেই গত ১৩ই জুলাই ১৯ বছরে পা রাখা ইয়ামালের মাঝে ম্যারাডোনা, পেলে কিংবা মেসির মতোই অল্প বয়সে ম্যাচ জেতানোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখতে পাচ্ছেন ফুটবল বোদ্ধারা। সাবেক স্প্যানিশ তারকা জাভি হার্নান্দেজের মতে, ইয়ামাল আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ফুটবল বিশ্ব শাসন করবেন।
ইতিহাসের কী অপূর্ব সমীকরণ! ২০০৭ সালের সেই ফটোশুটের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন স্পেনের তুরুপের তাস ইয়ামাল। মেসির ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এক নতুন মহাতারকার এই মুখোমুখি লড়াই ফুটবল ইতিহাসে এক চিরকালীন রূপকথা হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।
