মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ‘পদ বাতিল’ নিয়ে যা বললেন ইসি এইমাত্রঅন্যান্য জামায়াত এমপির ‘পদ বাতিল’ নিয়ে যা বললেন ইসি স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে লাখো ভক্তের স্বাক্ষর এইমাত্রঅন্যান্য স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে লাখো ভক্তের স্বাক্ষর ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী ইয়াবার টাকায় শক্তিশালী হচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠী এইমাত্রঅন্যান্য ইয়াবার টাকায় শক্তিশালী হচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ফরিদপুরে বাড়ছে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র দৌরাত্ম্য, নিয়মিত অভিযানের অভাবে হুমকিতে দেশীয় মাছ এইমাত্রঅন্যান্য ফরিদপুরে বাড়ছে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র দৌরাত্ম্য, নিয়মিত অভিযানের অভাবে হুমকিতে দেশীয় মাছ কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক আর নেই এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক আর নেই মোদির ঘোষণার পরও হলো না কাজ, পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিক্ষোভকারীরা এইমাত্রঅন্যান্য মোদির ঘোষণার পরও হলো না কাজ, পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিক্ষোভকারীরা এনসিপি নেতা আফতাব মজুমদার জয় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য এনসিপি নেতা আফতাব মজুমদার জয় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার
অন্যান্য

ফরিদপুরে বাড়ছে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র দৌরাত্ম্য, নিয়মিত অভিযানের অভাবে হুমকিতে দেশীয় মাছ

প্রতিবেদক:
ফরিদপুরে বাড়ছে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র দৌরাত্ম্য, নিয়মিত অভিযানের অভাবে হুমকিতে দেশীয় মাছ

ফরিদপুরের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও আলফাডাঙ্গাসহ প্রায় সব উপজেলায় এই অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদের বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারি বসিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলের পানির প্রবাহের মুখে বাঁশ, জাল ও প্লাস্টিকের তৈরি অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এসব ফাঁদে রেণুপোনা, কিশোর মাছ থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় মোল্যা বলেন, “এ বছর চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো অভিযান দেখিনি। নদী-খালে অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এগুলো অপসারণ না করলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”

সালথা উপজেলার রহিম শেখ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে জাল ফেললেই নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলার আব্দুল জলিল বলেন, “অনেক সময় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়। স্থানীয়রা জানালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়মিত অভিযান হলে কেউ এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করার সাহস পেত না।”

বোয়ালমারী উপজেলার হায়দার মাতুব্বর বলেন, “চায়না দুয়ারি শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা পর্যন্ত ধরে ফেলে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কায়সার খাঁন বলেন, “সরকার মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু চায়না দুয়ারির মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে সেই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি এমন একটি স্থায়ী ফাঁদ, যা পানির প্রবাহের মুখে বসানো হয়। এতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণুপোনা, কিশোর মাছ এবং ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরও সহজে বেশি মাছ ধরার আশায় অনেকেই এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কোথায় এসব চায়না দুয়ারি তৈরি ও সরবরাহ হচ্ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করে উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু দুয়ারি জব্দ বা ধ্বংস করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গত পাঁচ বছরে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, “শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মৎস্যজীবী সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফাঁদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।” এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, “চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, “আমরা চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”