মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কালুখালীতে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য কালুখালীতে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও এইমাত্রঅন্যান্য হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও জামায়াতের চিঠিতে নয়, স্পিকারের রেফারেন্সেই ব্যবস্থা নেবে: ইসি এইমাত্রঅন্যান্য জামায়াতের চিঠিতে নয়, স্পিকারের রেফারেন্সেই ব্যবস্থা নেবে: ইসি শেখ হাসিনার লাশও বাংলাদেশের মাটি গ্রহণ করবে না: জবি প্রক্টর এইমাত্রঅন্যান্য শেখ হাসিনার লাশও বাংলাদেশের মাটি গ্রহণ করবে না: জবি প্রক্টর রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় মধুমিতা সরকার এইমাত্রঅন্যান্য ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় মধুমিতা সরকার চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে: বিএনপি মহাসচিব এইমাত্রঅন্যান্য নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে: বিএনপি মহাসচিব
অন্যান্য

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের বড় দুঃসংবাদ

প্রতিবেদক:
পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের বড় দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ হওয়ার পরই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের ফলাফলের ওপর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে আইএমএফ সরকারকে অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ পরামর্শের পর সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই অনুন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন-ভাতা বাবদ বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় পরিসরে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।

আইএমএফের মতে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সংশোধিত একটি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক চাপ কমাতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি অথবা বিকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। অক্টোবরের আইএমএফ বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে সরকারের কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশও রয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে কমিশন উল্লেখ করেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, এতে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।