আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকদিনের বিরতির পর আবারও পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ‘আকস্মিক হামলার চেষ্টা’ হিসেবে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বুধবার (২৯ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে (২১:৪৫ জিএমটি) এই হামলার চেষ্টা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ঘাঁটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বাহিনী ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণাগারে হামলা চালায়। সেন্টকমের দাবি, গত ৭২ ঘণ্টায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, ইরাকে অবস্থানরত ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওই সময় টানা তিন দিন উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ এখনো আলোচনার বড় বাধা হয়ে রয়েছে। যদিও এমন কোনো আলোচনা চলছে বলেই অস্বীকার করে আসছে ইরান।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বুধবার এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৬২ ডলারে ওঠে।
এদিকে সর্বশেষ এই হামলার সময়ই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে ছিলেন। তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইরানবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও অংশ নেন।
পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আহতের সংখ্যা ৪১৭ জন।
