মূল লেখায় যান
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান

প্রতিবেদক:
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধসে পড়া একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের পর বুধবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তাদের উদ্ধারে সরকার সব ধরনের জনবল ও সম্পদ কাজে লাগিয়েছে।

ভূমিকম্পে কুমামোতো অঞ্চলের বহু সড়ক ফেটে গেছে এবং হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার ভোরে আংশিক ধসে পড়া একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর অজ্ঞাত কারণে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে ওই শপিংমলের দুই নারী কর্মী নিহত হন। স্থানীয় গণমাধ্যমের ধারণা, এটি গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

জরুরি উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শপিংমলের যেসব অংশ থেকে সাহায্যের আবেদন পাওয়া গেছে, সেখানে উদ্ধারকাজ জোরদার করেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত শপিংমলের ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।

এ ছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানায় চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন। সেখানে আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

আফটারশকের আশঙ্কায় অন্তত এক সপ্তাহ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকির কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রায় ৩৬ হাজার বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি। তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উকি শহরের একটি হাসপাতাল বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেটি এখন অনেকটা অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালের মতো পরিচালিত হচ্ছে। আরেকটি হাসপাতাল ৮৬ জন আহতকে ভর্তি নেওয়ার পর নতুন জরুরি রোগী গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

ভূমিকম্পের সময় চলাচলরত কয়েকটি বুলেট ট্রেনের যাত্রীও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কুমামোতোর সবচেয়ে বড় এই এইওন (Aeon) শপিংমলের প্রায় ২০০টি দোকান রয়েছে। বিস্ফোরণে ভবনটির এক পাশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং ইস্পাতের কাঠামো ও ধ্বংসাবশেষ পার্কিং এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই ক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে টোকিও ইলেকট্রন ও হোন্ডাসহ কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বুধবার পর্যন্ত তাদের স্থানীয় কারখানার উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা টিএসএমসি জানিয়েছে, সতর্কতামূলকভাবে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পর মঙ্গলবার রাত থেকেই তাদের স্থানীয় কারখানায় ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১০ বছর আগে কুমামোতোতে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং প্রায় ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন।