ভবন নির্মাণে কমবে হয়রানি, আসছে সমন্বিত ডিজিটাল অনুমোদন ব্যবস্থা
দেশের সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে অনলাইনভিত্তিক ভবন নকশা অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বর্তমানে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, সেটিকেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা উপলক্ষে গত ১ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রাজউকে বর্তমানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে ভবন নির্মাণ অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী এসব আবেদন ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিট সিস্টেম (ইসিপিএস) ব্যবহার করে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে একই ধরনের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সেবাগ্রহীতাদের বারবার অফিসে যেতে হবে না এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজউকের সেবাসমূহ আরও সহজ, দ্রুত ও মানসম্মত করতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে।
বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১২টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজউক, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কক্সবাজার ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগর উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণ অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। সরকার চায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাও একই ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা চালু হলে আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, মতামত সংগ্রহ এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা এবং হয়রানির সুযোগও কমে আসবে।
সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের আগে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। রাজউক কয়েক বছর আগে এসব সেবা ধাপে ধাপে অনলাইনে নিয়ে আসে। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার নাগরিকরাও একই ধরনের ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
