ময়মনসিংহে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ময়মনসিংহে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে সরকারের “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-র অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং চেক বিতরণ করেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ জেলা সার্কেলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক, যা ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, যানবাহন চালানোর সময় সিগন্যাল মেনে চলা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, পরিবহন শ্রমিক-মালিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন।
এদিকে একই দিনে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই উদ্যোগ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
