অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের বিশেষ বার্তা
বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে ।
অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি বর্তমান প্রজন্মের জীবনধারা, আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব এবং সন্তানদের মূল্যবোধ গঠনে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গনা আধুনিক তরুণদের উদ্দেশ্যহীন জীবন যাত্রার সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ডেটিং অ্যাপ, বেঞ্চিং, ঘোস্টিং, ডাবল বা ট্রিপল ডিজিট বডি কাউন্ট, ক্রাম্বিং, ফিল্টার, স্টোরিজ, মাদক, ক্লাব ও পার্টি—এসবের পরও অনেক তরুণ প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পায় না। এমন মোহ, আবেগ ও উদ্দেশ্যহীন জীবন মানুষকে ভেতর থেকে অস্থির করে তোলে।’
ডিজিটাল নির্ভরতা কমিয়ে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবেগ থাকা উচিত, তবে সেটি নিজের ক্যারিয়ার, সৃজনশীলতা ও জীবনের সাফল্য অর্জনের দিকে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। তরুণদের উচিত নিজেদের শক্তি ও চিন্তাশক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা। উদারভাবে চিন্তা করো, কিন্তু শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মূল্যবোধ সম্পন্ন জীবন যাপন করো। এতে নেতিবাচকতা, একঘেয়েমি, হতাশা এবং নানা ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।’
সন্তানদের মূল্যবোধ গঠনের প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, বর্তমানে শুধু পরিবার বা বাবা-মায়ের পরিবেশ দেখে কোনো সন্তানের চরিত্র বা মূল্যবোধ বিচার করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, একজন তরুণের ওপর কারা প্রভাব ফেলছে, সে কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার চিন্তা ভাবনায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে—এসব বিষয়ও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি বলেন, ‘সন্তানদের প্রতিটি ভুলের জন্য বাবা-মাকে দায়ী করা উচিত নয়। বর্তমান সময়ে মানুষ বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই ধরনের জীবন একসঙ্গে পরিচালনা করে। অনেকেই সমাজে একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ব্যস্ত থাকে, ফলে ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে অন্যরা তাকে কীভাবে দেখছে, সেটাই বেশি গুরুত্ব পায়। তাই কোনো সন্তানের কুকর্মের জন্য সবসময় পরিবারকে দায়ী করা সঠিক নয়।’
কঙ্গনার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে বর্তমান প্রজন্মের জন্য সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তাঁর মতামতের সঙ্গে দ্বিমতও প্রকাশ করেছেন।
