মূল লেখায় যান
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ এইমাত্রঅন্যান্য পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এইমাত্রঅন্যান্য ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  এইমাত্রঅন্যান্য সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক এইমাত্রঅন্যান্য বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার এইমাত্রঅন্যান্য ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার
অন্যান্য

বর্ষায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন? এই ৭টি ভুলই ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা

প্রতিবেদক:
বর্ষায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন? এই ৭টি ভুলই ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা

বর্ষাকাল মানেই ভেজা রাস্তা, কম দৃশ্যমানতা এবং দুর্ঘটনার বাড়তি ঝুঁকি। প্রতিদিন কর্মস্থল, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সময়টি সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার। শুধু বাইক ভালো থাকলেই হবে না, চালকের সচেতনতা ও সঠিক রাইডিং কৌশলই দুর্ঘটনা এড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক মোটরসাইকেলগুলো সাধারণ বৃষ্টিতে চালানোর জন্যই তৈরি। তাই মাঝারি বৃষ্টিতে চলাচল করলে ইঞ্জিনের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধ রাস্তা কিংবা পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করলে ইঞ্জিন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ব্রেকিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলাবদ্ধ রাস্তায় সবচেয়ে বেশি সতর্কতা

অনেকেই পানির গভীরতা না বুঝেই মোটরসাইকেল চালিয়ে যান। কিন্তু পানি যদি এক্সহস্ট পাইপ বা ইঞ্জিনের এয়ার ইনটেক পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি হতে পারে। তাই রাস্তার পানি বেশি হলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়াই নিরাপদ।

টানা কতক্ষণ বাইক চালানো নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল যদি স্বাভাবিক গতিতে এবং সর্বোচ্চ গতির প্রায় ৭০ শতাংশের মধ্যে চালানো হয়, তাহলে টানা কয়েক ঘণ্টা চললেও ইঞ্জিনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় চালালে চালকের ক্লান্তি বাড়ে, ফলে মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই প্রতি ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর অন্তত ১০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া ভালো।

ভেজা রাস্তায় গতি নয়, নিয়ন্ত্রণই গুরুত্বপূর্ণ

বৃষ্টিতে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের গ্রিপ কমে যায়। ফলে হঠাৎ ব্রেক করলে বাইক স্কিড করতে পারে। তাই গতি কম রাখা, সামনের গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং ধীরে ধীরে ব্রেক করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে সাদা রোড মার্কিং, ম্যানহোলের ঢাকনা ও ব্রিজের ওপরের অংশ বেশি পিচ্ছিল থাকে।

টায়ার পরীক্ষা করাও জরুরি

বর্ষার আগে টায়ারের ট্রেড বা খাঁজ পর্যাপ্ত আছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত। ক্ষয়প্রাপ্ত টায়ার ভেজা রাস্তায় পানি ঠিকমতো সরাতে পারে না, ফলে স্কিড করার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

রেইন গিয়ার ব্যবহার করুন

হেলমেট, রেইনকোট, জলরোধী গ্লাভস ও বুট ব্যবহার করলে শুধু আরামই নয়, নিরাপত্তাও বাড়ে। পাশাপাশি হেলমেটের ভিজর পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজনে অ্যান্টি-ফগ স্প্রে ব্যবহার করুন, যাতে বৃষ্টির সময় সামনে পরিষ্কার দেখা যায়।

বৃষ্টির পর বাইকের যত্ন নিন

রাইড শেষে মোটরসাইকেল পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। এরপর চেইন পরিষ্কার করে লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করুন। ব্রেক, ক্লাচ, লাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। এতে মরিচা পড়ার ঝুঁকি কমে এবং বাইকের আয়ুও বাড়ে।

বৈদ্যুতিক অংশে নজর রাখুন

বৃষ্টির কারণে স্পার্ক প্লাগ, ব্যাটারির সংযোগ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ ভিজে গেলে বাইক স্টার্ট নিতে সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বারবার সেলফ স্টার্ট না দিয়ে প্রথমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষায় মোটরসাইকেল চালানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সতর্কতা। কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক রাইডিং অভ্যাস, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে বর্ষাতেও মোটরসাইকেল চালানো হতে পারে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।