‘রুদ্রাংশ’ নিয়ে বড় পরিকল্পনায় নির্মাতা মান্দার কাদাম
ভারতীয় ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান মহারাষ্ট্রের তরুণ নির্মাতা মান্দার কাদাম। তার নির্মাণাধীন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘রুদ্রাংশ: লেগ্যাসি অব আ গ্রেট কিং’-কে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। নির্মাতার দাবি, কেবল বিনোদন নয়, গবেষণা নির্ভর ও তথ্যসমৃদ্ধ গল্পের মাধ্যমে ভারতীয় ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এই সিনেমা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মান্দার কাদাম বলেন, ভারতীয় ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রে অনেক সময় চমকপ্রদ যুদ্ধ, বিশাল সেট কিংবা ভিজ্যুয়াল জাঁকজমকের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ইতিহাসের অজানা অধ্যায়, বাস্তব ঘটনা এবং সেই সময়ের মানুষের জীবনকে যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে পর্দায় তুলে ধরতে চান। তার মতে, একটি ঐতিহাসিক সিনেমার দায়িত্ব শুধু দর্শককে বিনোদন দেওয়া নয়, ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখানোও।
জানানো হয়েছে, ‘রুদ্রাংশ’-এর চিত্রনাট্য তৈরিতে প্রায় পাঁচ বছর গবেষণা করেছেন মান্দার কাদাম। এ সময় তিনি ঐতিহাসিক নথি, রাজকীয় দলিল, বিভিন্ন গবেষণাগ্রন্থ ও আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে বিস্তর কাজ করেছেন। তার ভাষায়, এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা নয়, বরং সিনেমাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
সিনেমাটি মারাঠা সাম্রাজ্যের এমন কিছু অধ্যায় তুলে ধরবে, যেগুলো মূলধারার চলচ্চিত্রে খুব কমই দেখা গেছে। এতে ইতিহাস, উত্তরাধিকার, বীরত্ব, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াইকে বাস্তবতার আলোকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হবে।
মান্দার কাদাম শুধু এই ছবির পরিচালক নন, তিনি এর লেখক ও প্রযোজকও। কোলহাপুরের এই নির্মাতা চারুকলার শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বিশ্বাস, শিল্পকলার সেই অভিজ্ঞতা সিনেমার ভিজ্যুয়াল ভাষা এবং নান্দনিক উপস্থাপনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বর্তমানে ছবিটির নির্মাণকাজ চলছে। খুব শিগগিরই অভিনয়শিল্পী ও মুক্তির সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মান্দার কাদাম বলেন, “ভারতের ইতিহাসে অসংখ্য অনুচ্চারিত গল্প রয়েছে। ‘রুদ্রাংশ’-এর মাধ্যমে আমি সেই গল্পগুলো বিশ্বের দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আমার লক্ষ্য শুধু একটি সিনেমা বানানো নয়, ভারতীয় ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করা।”
