পত্নীতলায় হানিট্রাপ ও ভুয়া ওয়েবপেজে মুক্তিপণ আদায়, দুই তরুণীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
নওগাঁর পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নজিপুর পৌরসভার সর্দারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করত। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা গেছে, এই চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এই অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতো এবং তাদের বাসায় নিয়ে এসে মারধর করে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করতো। এসকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভিতি দেখিয়ে ভিকটিমের নিকট থেকে টাকা আদায় করতো।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পত্নীতলা সার্কেল ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ঐ বাসায় অভিযান চালিয়ে এই অপরাধের সাথে জড়িত ২ জন নারী ও ২ জন পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো- পত্নীতলা উপজেলার পুইয়া গ্রামের মৃত আল হেলালের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), শিবপুর সরদারপাড়া এলাকার মৃত কামরুজ্জামানের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২২) , জয়পুরহাট সদর উপজেলার হালাট্টী এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের মেয়ে রুমা খাতুন (২০) এবং নওগাঁর পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মৃত মামুনুর রশিদের মেয়ে সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে এই ধরনের কাজ করে আসছে। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলমান আছে।
এ ব্যাপারে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- এই চক্রের আরো সদস্য যারা জড়িত সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এসময় তিনি এই ধরনের হানিট্রাপ থেকে তরুণদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
