ডিডিএন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার ৮
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান “ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)” এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷
আজ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়৷ জানা গেছে, সিএমপি’র একাধিক টিম, চকবাজার থানার পুলিশ এবং র্যাব- ৭ গত ১৪ জুলাই রাতব্যাপী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনায় সনাক্তকৃত আসামী মোঃ ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মোঃ সুমন (২৭), মোঃ মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮), মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২১) মোঃ নয়ন (২০), এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ প্রকাশ ফরহাদ (২৮) কে গ্রেফতার করে৷
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে আসামী মোঃ ইউনুস (৪১) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মানবপাচার, মাদক, ছিনতাইয়ের মোট ৫টি মামলা, ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মারামারি, চোরাচালান, দ্রুত বিচার আইনে মোট ১২টি মামলা, আকবর হোসেন (২৪) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মোঃ সুমন (২৭), এর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মোঃ মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮) এর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৭টি মামলা, মোঃ নয়ন (২০) এর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির মোট ৪টি মামলা তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আসামীকে নিয়ে অভিযান অব্যাহত থাকায় সংবাদ সম্মেলনে তাকে হাজির করানো যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়৷
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসা “ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) এর প্রধান নির্বাহীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে নিজেকে “ডেবিড ইমন” পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও একপর্যায়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টায় হতে সড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানাধীন ১২১, মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা, বাকলিয়া এক্সেস রোডস্থ মরিয়ম হাইটস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত উক্ত প্রতিষ্ঠানের অফিসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে।
সন্ত্রাসীরা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টটার, ফিঙ্গার মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ভাঙচুর করে। এতে অনুমানিক পনেরো লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়াও ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ সাতচল্লিশ হাজার টাকা, ৩ট অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধ ব্যাগ নিয়ে যায়। উক্ত ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা আনুমানিক পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা ছিল মর্মে চকবাজার থানায় চকবাজার থানার মামলা (নং-০৭) রুজু হয়।
