30 July 2026
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা

রাত তখন সাড়ে তিনটা। ঘুমন্ত ক্যাম্পের নিস্তব্ধতা ভেঙে নামাজের জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন মোহাম্মদ জুবায়ের (৩৪)। প্রতিবেশী ইব্রাহিমের ঘরের সামনে দিয়ে যখন তিনি মসজিদের দিকে এগোচ্ছিলেন, অন্ধকার থেকে ছুটে এলো একদল অজ্ঞাত বন্দুকধারী। প্রায় পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এইচ/২৯ ব্লক। গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে ফেলে দ্রুত অন্ধকারে মিলিয়ে যায় হামলাকারীরা।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন কথিত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)-র সদস্য জুবায়ের। তিনি ওই ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে।
ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) জানিয়েছে, নিজ বসতঘর থেকে মসজিদমুখী হওয়ার পথেই আক্রান্ত হন জুবায়ের। স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ক্যাম্পের এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের দুটি সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসও-র মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলছিল, যার জেরে ক্যাম্প এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। প্রাথমিক ধারণা, এই দীর্ঘস্থায়ী কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুবায়েরের হত্যাকাণ্ডে। ক্যাম্পের ভেতরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই গোষ্ঠীর সংঘাত নতুন কিছু নয়—তবে প্রতিটি নতুন হত্যাকাণ্ড ক্যাম্পবাসীর জন্য বাড়িয়ে তোলে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এক বাস্তবতা। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা। জুবায়েরের মৃত্যু সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন যা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
