মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ১১ লাখ টাকার ঘাটতিতে এবি পার্টি এইমাত্রঅন্যান্য আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ১১ লাখ টাকার ঘাটতিতে এবি পার্টি ২টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও এইমাত্রঅন্যান্য ২টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও আশুলিয়ায় বিকাশের ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২ এইমাত্রঅন্যান্য আশুলিয়ায় বিকাশের ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২ ৩ দিনের সফরে ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এইমাত্রঅন্যান্য ৩ দিনের সফরে ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর শেরপুরে দুই নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি এইমাত্রঅন্যান্য শেরপুরে দুই নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার বরখাস্ত এইমাত্রঅন্যান্য পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার বরখাস্ত সারজিস আলমের গাড়ী বহরে আবারও হামলা এইমাত্রঅন্যান্য সারজিস আলমের গাড়ী বহরে আবারও হামলা বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান ওসির এইমাত্রঅন্যান্য বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান ওসির
অন্যান্য

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা

প্রতিবেদক:
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সদস্যকে গুলি করে হত্যা

রাত তখন সাড়ে তিনটা। ঘুমন্ত ক্যাম্পের নিস্তব্ধতা ভেঙে নামাজের জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন মোহাম্মদ জুবায়ের (৩৪)। প্রতিবেশী ইব্রাহিমের ঘরের সামনে দিয়ে যখন তিনি মসজিদের দিকে এগোচ্ছিলেন, অন্ধকার থেকে ছুটে এলো একদল অজ্ঞাত বন্দুকধারী। প্রায় পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এইচ/২৯ ব্লক। গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে ফেলে দ্রুত অন্ধকারে মিলিয়ে যায় হামলাকারীরা।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন কথিত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)-র সদস্য জুবায়ের। তিনি ওই ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে।

ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) জানিয়েছে, নিজ বসতঘর থেকে মসজিদমুখী হওয়ার পথেই আক্রান্ত হন জুবায়ের। স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ক্যাম্পের এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের দুটি সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসও-র মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলছিল, যার জেরে ক্যাম্প এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। প্রাথমিক ধারণা, এই দীর্ঘস্থায়ী কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুবায়েরের হত্যাকাণ্ডে। ক্যাম্পের ভেতরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই গোষ্ঠীর সংঘাত নতুন কিছু নয়—তবে প্রতিটি নতুন হত্যাকাণ্ড ক্যাম্পবাসীর জন্য বাড়িয়ে তোলে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এক বাস্তবতা। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা। জুবায়েরের মৃত্যু সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন যা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।