08 July 2026
প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে আলফালাক ও মাইশা প্রপার্টিজের ৪ দফা দাবি

প্রতারক চক্রের মুখোশ উন্মোচন করা নিয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ও মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ইকরামুল হকের নেতৃত্ব সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র আলফালাক ও মাইশা প্রপার্টিজসহ অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিঃস্ব করছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক মো: ছিদ্দিকুর রহমান। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. জাকারিয়া ও মো: হায়দার আলী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের মূল বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, জাপান প্রবাসী মো: ইকরামুল হকের অর্থায়নে তার ভাই মো: রিয়াজুল হাসান ওরফে মিথুন একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ, মর্টগেজ, বায়না চুক্তি ও চেকের মাধ্যমে প্রতারণা করছে। এ কারণে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আলফালাক রিয়েল এস্টেটের ঘটনায় অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, করোনা মহামারির পর আর্থিক সংকটে পড়লে রিয়াজুল হাসান তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগের বিপরীতে নির্ধারিত সময় শেষে ৬০ লক্ষ টাকা লাভ দেওয়ার শর্তে কোম্পানির ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবের ৩টি নিরাপত্তা চেক নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রিয়াজুল হাসান দাবি করেন যে তার ভাই শুধুমাত্র চেকে সন্তুষ্ট নন, মর্টগেজ হিসেবে নিবন্ধিত বায়না চুক্তি করতে হবে। বিশ্বাসের ভিত্তিতে এস. এম. জাকারিয়া মহম্মদপুর প্রকল্পের ৪টি ফ্ল্যাট ও ৪টি কার পার্কিং মর্টগেজ হিসেবে নিবন্ধন করেন। এরমধ্যে ১০/০৭/২০২৫ তারিখে ১ কোটি টাকার বিপরীতে ১টি ফ্ল্যাট ও ১টি পার্কিং এর সাফ-কবলা রেজিস্ট্রি দলিল করে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপের অভিযোগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
এরপর রিয়াজুল হাসান তার বন্ধু মো: মাজহারুল ইসলাম কে দিয়ে এস.এম. ট্রেডিং এর নামে আরও ১ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। ২টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ৭০ লক্ষ টাকা প্রদান ও অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা লাভের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে মিরপুর-১ এ ২টি দোকান জবরদখলের চেষ্টা এবং এস. এম. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মানবন্ধন করে মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সি.আর. মামলা নং-৫৪১/২০২৫ ও ৫১৫/২০২৫ বিচারাধীন।
এসব ঘটনার কারণে এস. এম. জাকারিয়া ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ৪ দফা দাবি জানানো হয়:
১। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করা হোক।
২। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৩। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হোক।
৪। ভবিষ্যতে যাতে কেউ একই ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেড ও মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্সের একটি ৭ লক্ষ টাকার চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা সংযোজন করে ৬১ লক্ষ টাকা করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ফরেনসিক রিপোর্টে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
