ইরানের বান্দার-ই-খামির সেতুতে মার্কিন হামলা, নিহত ৭
দক্ষিণ ইরানে নতুন করে চালানো মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেতু ও আবাসিক এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-ই-খামির সেতুতে মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে। এ হামলায় আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের জরুরি সেবা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের ‘আল্লাহু আকবার’ নামে একটি আবাসিক এলাকায় চালানো পৃথক হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। একই হামলায় শহরের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরআইবি আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের হামিদিয়েহ এলাকার কাছে টানা ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহর বিমানবন্দরের কাছেও তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। অন্তত একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে আধা-সরকারি মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাতে বান্দার আব্বাস, কেশম দ্বীপ, আহভাজ ও বুশেহরেও মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের বিমান হামলার সর্বশেষ অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ ডজনখানেক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত জুনের মাঝামাঝি দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা স্মারক সই হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, তেহরান আলোচনায় রাজি না হলে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, উত্তেজনা চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান এখনও সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
