আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা: গ্রেপ্তার অভিযুক্ত সন্ত্রাসী লেদু
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্তকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই আদাবরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির নবোদয় হাউজিং এলাকায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা নিহত হন। ঘটনাটি ঘটে জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের জেরে। ছুরিকাঘাতে আহত বাদশাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন লেদু হাসান।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে র্যাব-২ মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে লেদুকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানিয়েছে, লেদুর বিরুদ্ধে শুধু এই হত্যাকাণ্ড নয়, অতীতেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। পরে ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ র্যাব-৪-এর হাতে আবারও গ্রেপ্তার হন। ওই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছিলেন। এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মনোয়ার হোসেন লেদুর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২টি, দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা এবং একটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ২টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টি মামলা এবং একটি অভিযোগ রয়েছে। দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
