মূল লেখায় যান
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ওজনে কম দেওয়ায় নাবিস্কো বিস্কুটকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করলো বিএসটিআই এইমাত্রঅন্যান্য ওজনে কম দেওয়ায় নাবিস্কো বিস্কুটকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করলো বিএসটিআই ইরানের শক্তিমত্তাই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে এইমাত্রঅন্যান্য ইরানের শক্তিমত্তাই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে শেরপুরে অবৈধভাবে বালু তোলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা. এইমাত্রঅন্যান্য শেরপুরে অবৈধভাবে বালু তোলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা. ‘তাকওয়া অর্গানিক’-কে দশ হাজার টাকা জরিমানা করলো বিএসটিআই এইমাত্রঅন্যান্য ‘তাকওয়া অর্গানিক’-কে দশ হাজার টাকা জরিমানা করলো বিএসটিআই অনুমোদনহীন মসলা বিক্রির দায়ে ‘রনক্স মার্ট’-কে এক লাখ টাকা জরিমানা এইমাত্রঅন্যান্য অনুমোদনহীন মসলা বিক্রির দায়ে ‘রনক্স মার্ট’-কে এক লাখ টাকা জরিমানা ইবির ১০টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার এইমাত্রঅন্যান্য ইবির ১০টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার চলতি মাসে দেশজুড়ে হতে পারে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস এইমাত্রঅন্যান্য চলতি মাসে দেশজুড়ে হতে পারে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস ঢাবিতে শিবির নেতার কক্ষে ‘আপত্তিকর’ ঘটনা, মিলল অভিযুক্তদের পরিচয় এইমাত্রঅন্যান্য ঢাবিতে শিবির নেতার কক্ষে ‘আপত্তিকর’ ঘটনা, মিলল অভিযুক্তদের পরিচয়
অন্যান্য

যুদ্ধবিরতি নাকি কৌশলগত চাপ? ট্রাম্প আসলে কী চান- বিশ্লেষণ

প্রতিবেদক:
যুদ্ধবিরতি নাকি কৌশলগত চাপ? ট্রাম্প আসলে কী চান- বিশ্লেষণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আপাতত থেমে গেলেও ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সংকটের অবসান চায়, নাকি কূটনীতিকে আবারও চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন প্রশ্ন তুলেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)।

রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমএনএ বলেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা, অসমাপ্ত আলোচনা এবং পরোক্ষ সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) দুই দেশের মধ্যে সংলাপের একটি পথ তৈরি করলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো সেই আস্থার ভিত্তি ভেঙে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান একদিকে সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক হামলার হুমকিও দিচ্ছে। এমএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, এ থেকে বোঝা যায় ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতিকে একটি স্বাধীন লক্ষ্য হিসেবে নয়, বরং সামরিক চাপের পরিপূরক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দ্রুত এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হবে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে এবং একটি বিস্তৃত পরমাণু চুক্তির আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি বহাল রেখে ইরানকে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার কৌশলও অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমএনএর মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আলোচনা মূলত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এতে পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়েও নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের দৃষ্টিতে অতীতের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো—নতুন কোনো আলোচনায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই ভবিষ্যতের যেকোনো সংলাপ কার্যকর ও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এমএনএ আরও বলেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ এখন আর কেবল দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়। ইরাক, লোহিত সাগর, জর্ডানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ ও কূটনীতিকে একসঙ্গে ব্যবহার করলে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বরং পারস্পরিক স্বার্থ, কার্যকর নিশ্চয়তা, সুস্পষ্ট সময়সূচি এবং ধারাবাহিক যোগাযোগের ভিত্তিতে আলোচনা এগোলে তবেই দীর্ঘমেয়াদে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হতে পারে।