পাকিস্তানে বিয়ের অতিথিবাহী রিকশা খালে, ৬ শিশুসহ নিহত ১২
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কোট আদ্দু জেলায় বিয়ের অতিথিবাহী একটি দ্রুতগতির লোডার রিকশা খালে পড়ে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে-এর প্রতিবেদনে উদ্ধারকারী সংস্থা ও পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে কোট আদ্দু জেলার লোমার ওয়ালা থেকে বাস্তি আরাইনের দিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথিদের নিয়ে তিনটি লোডার রিকশা যাচ্ছিল। পথে দ্রুতগতির কারণে একটি রিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সানাওয়ানের শেখো সুগার মিলের কাছে মুজাফফরগড় খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর রিকশায় থাকা তিনজন কোনোভাবে খাল থেকে উঠে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। প্রথম দিকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে কোট আদ্দু রেসকিউ ১১২২-এর ইনচার্জ উসামা জিশান জানান, খাল থেকে আরও নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
উদ্ধার অভিযানে কোট আদ্দু ও মুজাফফরগড় জেলার আটজন ডুবুরি এবং ২২ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছেন।
উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫, ৭, ১৫ ও ২০ কিলোমিটার দূর থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবল পানির স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত খালের প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মুজাফফরগড় খালের গভীরতা আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ ফুট এবং প্রস্থ ১০০ থেকে ১২০ ফুট। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে। খালটি কোট আদ্দু ও মুজাফফরগড় এলাকার প্রায় ৮ লাখ একর জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে।
উদ্ধারকারী ও স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পানির প্রবল স্রোত ও খালের আকারের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনা পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানোর ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। চলতি বছর পাঞ্জাবের লোধরান জেলায় বিয়ের অতিথিবাহী একটি বাস উল্টে অন্তত চারজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
