মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ছাত্ররাজনীতি থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল এইমাত্রঅন্যান্য ছাত্ররাজনীতি থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল পরমাণু হামলা হলে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন ঘাঁটি দখলের হুমকি ইরানের এইমাত্রঅন্যান্য পরমাণু হামলা হলে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন ঘাঁটি দখলের হুমকি ইরানের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এইমাত্রঅন্যান্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বিশ্বসেরা ৩ দলের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের অনন্য কীর্তি এইমাত্রঅন্যান্য বিশ্বসেরা ৩ দলের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের অনন্য কীর্তি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কে যুক্ত হলো জায়ান্ট সুইং, জিপ লাইন ও কিডস জোন এইমাত্রঅন্যান্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কে যুক্ত হলো জায়ান্ট সুইং, জিপ লাইন ও কিডস জোন স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি: শিক্ষক রাকিবুলের অপকর্ম ঢাকতে 'সালিশের' উদ্যোগ এইমাত্রঅন্যান্য স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি: শিক্ষক রাকিবুলের অপকর্ম ঢাকতে 'সালিশের' উদ্যোগ বগুড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা? এইমাত্রঅন্যান্য বগুড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র কেন এইমাত্রঅন্যান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র কেন
অন্যান্য

শিশু হত্যা ও বলাৎকার মামলার ১১ মাস পর আসামি গ্রেফতার লামায়

প্রতিবেদক:
শিশু হত্যা ও বলাৎকার মামলার ১১ মাস পর আসামি গ্রেফতার লামায়

​বান্দরবানের লামা উপজেলায় শিশু আরাফাত হোসেনকে (৯) বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুচকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে লামা থানা পুলিশ।

​গ্রেফতারকৃত মো. আবদুল কুদ্দুচ লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি করাতকলের দেখাশোনা করতেন এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।

​মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকার বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার ঢাসার সাথে গলায় নেট রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নানী ভিকটিমের গলায় থাকা রশি আগুনে পুড়িয়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এ ঘটনায় শুরুতে লামা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-১১) রুজু হয়েছিল।

​পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামত থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ডিএনএ পরীক্ষায় নিহতের অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। বান্দরবান জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হেনা মো. সাইফুদ্দীন খালেদ মতামত প্রদান করেন যে, শিশুটির মৃত্যু বলাৎকারপরবর্তী শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা (নং-০৪, জিআর-৬৭/২৬) রুজু করা হয়।

​মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।

​লামা থানার এসআই মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, তদন্তে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুচ ভিকটিমের নানী জুলেখা বেগমকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন এবং সন্দেহজনক আচরণ শুরু করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি টের পেয়ে আসামি তার অটোরিকশা গাড়িটি স্থানীয় হাফিজ মেম্বারের গ্যারেজে রেখে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যান।

​তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার ও গুপ্তচরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদের নেতৃত্বে এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার সার্বিক সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে মো. আবদুল কুদ্দুচকে গ্রেফতার করা হয়।

​এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে, ঘটনার দিন ও সময়ে সে শিশু আরাফাত হোসেনকে পায়ুপথে ধর্ষণ (বलाৎকার) করে। পরবর্তীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মৃতদেহ মাচার ঢাসার সাথে গলায় নেট রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

​লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।