তীব্র লোডশেডিংয়ে বাড়তি নিরাপত্তা চায় রাজশাহীর ১৪ টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
তীব্র লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজশাহীর ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বুধবার (১২ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী নগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ২৮ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। কখনো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও আবার কখনো ঘাটতি দেখা দেয়। তবে নগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতেও নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে রাজশাহী নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনভোগান্তি বাড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগের পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
