কালীগঞ্জে ডাকাতি: বাধা দেওয়ায় গৃহবধূ নিহত, স্বামী-মেয়ে আহত
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মধ্যরাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুন আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাত দলের এলোপাথাড়ি কোপে ওই ব্যবসায়ীর স্বামী ও তার এক কিশোরী মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি তেতুইবাড়ি এলাকার নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামরুন আক্তার ওই এলাকার রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন—মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) এবং তার বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬)। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঞ্জুরুল ইসলাম স্থানীয় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। সেই কাজের ব্যয় মেটানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার তিনি ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে এনেছিলেন। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে ৫-৬ জনের একদল ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাত দল আলমারি থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করার সময় কামরুন আক্তার টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় ডাকাতদের সাথে মঞ্জুরুল, কামরুন ও তাদের বড় মেয়ে মিমের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তিনজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর অবস্থায় কামরুন আক্তারকে স্থানীয় ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন জানান, রাত সোয়া ৪টার দিকে কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় ও বুকের নিচে গভীর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর ৫ মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ও তার মেয়ে মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই স্বজনরা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনায় মঞ্জুরুলের অন্য দুই সন্তান (এক মেয়ে ও এক ছেলে) অক্ষত রয়েছে।
দুর্ধর্ষ এই হত্যাকাণ্ডের খবরে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাগরী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্বাচল শহর লাগোয়া এই জনপদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নাগরীতে নামমাত্র একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সেখানে সদস্য সংখ্যা কম এবং নেই পর্যাপ্ত টহল গাড়ি। ফলে এলাকায় প্রায়ই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
