সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আসছে নতুন সুবিধা, পাবেন আজীবন
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, জনআগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা চালু করা হতে পারে।
বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তবে তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।
ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বর্তমান নিয়মে পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।
নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।
আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এবার এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। পর্ষদের অনুমোদন পেলে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
