মূল লেখায় যান
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে, জানাল পুলিশ এইমাত্রঅন্যান্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে, জানাল পুলিশ গাজীপুরে বাসায় ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা এইমাত্রঅন্যান্য গাজীপুরে বাসায় ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা শেফালির সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস, ১১৪ রানে হার এইমাত্রঅন্যান্য শেফালির সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস, ১১৪ রানে হার ১১ দলের লংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: পুলিশ অফিসার প্রত্যাহার এইমাত্রঅন্যান্য ১১ দলের লংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: পুলিশ অফিসার প্রত্যাহার চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই: গ্রেফতার ১ এইমাত্রঅন্যান্য চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই: গ্রেফতার ১ সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অপ্রতীম এইমাত্রঅন্যান্য সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অপ্রতীম পুরস্কার না পেলেও মেসিকেই বিশ্বকাপের সেরা বললেন ইয়ামাল এইমাত্রঅন্যান্য পুরস্কার না পেলেও মেসিকেই বিশ্বকাপের সেরা বললেন ইয়ামাল বরগুনায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে এইমাত্রঅন্যান্য বরগুনায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে
অন্যান্য

আজ দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়, অংশ নেবে না বিরোধীরা

প্রতিবেদক:
আজ দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়, অংশ নেবে না বিরোধীরা

জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মতবিনিময় করবে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দল এতে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বিশেষ কমিটি সূত্র জানায়, রোববার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হবে। বৈঠকের অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি দল ও জোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দল ও জোটগুলোর মতামত জানতে চাওয়া হবে।

তবে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের পক্ষে রয়েছে বিরোধী দল। এই পরিষদ গঠন না হওয়ায় সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত সরকারি কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে তারা আগ্রহী নয়। এ কারণে বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি।

জামায়াতে ইসলামী-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকা শরিক দলগুলোরও মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলও সভায় অংশ নাও নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। বামপন্থি চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি। ফলে মোট ২৬টি দল ও জোট এতে সই করে। এর মধ্যে বর্তমানে আটটি দল ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে।

১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, তারা মতবিনিময়ের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে সভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল। সেটি না করে বিশেষ কমিটি গঠন করা সঠিক হয়নি।

জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেছিল। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা।

তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি এবং দলটির সংসদ সদস্যরাও ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এর পরিবর্তে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি এবং কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।

বিশেষ কমিটি সূত্র জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দল কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে বলে সরকারি দল আশা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ কমিটি এখন নিজস্ব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন শনিবার বলেন, সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি। তার মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করলে বিদ্যমান সংকটের সমাধান হবে না। বিশেষ কমিটি গঠনের সময়ই তারা সরকারকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কমিটিতে তারা অংশ নেবেন না; সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে অংশ নেবেন।