মূল লেখায় যান
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৬, আহত ২৬

প্রতিবেদক:
আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৬, আহত ২৬

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। নতুন করে কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম জয়নব (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কারখানা চত্বরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে বিকট শব্দে একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরে যায়। পরে একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে থাকে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ অন্তত ৭-৮টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি এবং ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত ৮টা ৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি টেইলার্সে অবস্থান করছিলেন জয়নব। বিস্ফোরণের সময় একটি সিলিন্ডার টেইলার্সের টিনের ছাদ ভেদ করে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় সেখানে থাকা আরও কয়েকজন আহত হন।

নিহত জয়নবের মেয়ে সানজিদা বলেন, ‘আমার মা আমার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আমি একটি টেইলার্সে কাজ করি। ঘটনার সময় মা টেইলার্সের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর একটি সিলিন্ডার টিনের ছাদ ভেদ করে মায়ের মাথায় পড়ে। এতে তিনি মারা যান। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

রাত ৮টার দিকে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, কারখানায় ব্যবহারের জন্য আনা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে সিলিন্ডার নামানোর সময় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে থাকা অন্তত পাঁচটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

তিনি আরও বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে কারখানার জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা জোন-৪-এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, পৌনে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। রাস্তায় যানজট থাকায় তারা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেখতে পান। পরে রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি বলেন, কাভার্ডভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। আগুন কোথা থেকে লেগেছে এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

রাত পৌনে ৯টার দিকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ২৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই কারখানার আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজন শরীর বেশি দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একজন নারী সিলিন্ডারের আঘাতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এদিকে, রাত সোয়া ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচজন রয়েছেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।