সীমান্তের কালভার্টে মিলল নিখোঁজ কিশোরের লাশ
বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছিল কিশোর শাকিল। স্পিকারে গানের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ করলেও, সেই মুহূর্তটিই ছিল তার জীবনের শেষ সময়। গায়ে হলুদের রাতে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের নিচের কালভার্টের পানিতে তার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর শাকিলের লাশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ত্রিপুরা পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তবর্তী আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার চতুর্থ ছেলে শাকিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিল মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
শাকিলকে খুঁজে পেতে স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর বিজিবির সহায়তায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের নিচে একটি কালভার্টের পানিতে তার অর্ধগলিত লাশ শনাক্ত করা হয়। কীভাবে শাকিল সেখানে গেলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।
শনিবার বিকেলে ভারতের আগরতলা পশ্চিম থানার পুলিশ শাকিলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। রোববার বিকেলে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর ও ভারতের আগরতলার সানমোড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে পশ্চিম ত্রিপুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানিস পাল আখাউড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাকের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কসবা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব, আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম, ফকিরমোড়া বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নিরাময় চাকমাসহ সংশ্লিষ্টরা।
শাকিলের বাবা আবুল বাসার বলেন, ‘আমার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। মেয়ের বিয়ের আগের দিন গায়ে হলুদের রাত থেকে শাকিলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শনিবার জানতে পারি, ভারতের ভেতরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে একটি ব্রিজের কাছে লাশ পাওয়া গেছে। পরে গিয়ে দেখি, সেটি আমার ছেলের লাশ।’
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘শাকিলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। সে অসুস্থ ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল।’
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে শাকিলের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। কসবা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘কীভাবে শাকিল সীমান্তের শূন্যরেখায় গেল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগরতলায় হওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এনে আমাদের করা সুরতহাল রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ছেলেটি অসুস্থ ছিল, সম্ভবত সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
